মালয়েশিয়ায় রিলোকেশন ০ - রেজিউম প্রস্তুতি ও ইন্টারভিউ


22 Mar 2019 malaysia

রিলোকশেন কি সেটা মনে হয় না বললেও চলে। যারা জানেন না তাদের জন্য, এটা হল একরকম জব অফার যেখানে আপনাকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে (মূলত অন্য দেশে) জব করতে হবে এবং আপনার যাওয়া সহ যাবতীয় দায় দায়িত্ব আপনার কোম্পানি বহন করবে। কিছু ক্ষেত্রে কোম্পানিই আপনাকে যাবার খরচ, মালপত্র শিপমেন্ট খরচ এসবও দিয়ে থাকে। আর অনেক সময় রিলোকেশন উইথ ভিসা স্পন্সরশিপ বলে আরেকটি জব অফার থাকে সেখানে আপনাকে রিক্রুট করা কোম্পানিই আপনাকে ওই দেশে নিয়ে যাওয়ার সকল লিগ্যাল পেপারস, ভিসার এপ্লাই, ভিসার রিনিউ ইত্যাদি সকল দায়িত্ব পালন করবে। আমেরিকা, কানাডা, জার্মানী ইত্যাদি দেশে ভিসা স্পন্সরশিপ একটু কম থাকলেও সাউথ এশিয়ান ও আশেপাশের দেশগুলোয় খুঁজলেই প্রচুর রিলোকেশন অফার পাবেন যেখানে আপনার ভিসা কোম্পানিই স্পন্সর করবে। তো আমি গতমাসে এরকমই একটি কোম্পানি থেকে রিলোকেট হয়ে মালয়েশিয়া এসে চাকরি করছি। সবার সাথে আমার অভিজ্ঞতা ও টিপস শেয়ার করতেই এই ব্লগটি লেখা।

রেজিউম তৈরী

রিলোকেশন অফারে এপ্লাই করার আগে সবার আগে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। নানাভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন। মার্কেটে কি কি টেকনোলজি চলছে, কিসের চাহিদা বেশী এসবের ভিত্তিতে নিজেকে তৈরী করে নিতে পারেন। অর্জন করে নিতে পারেন কয়েকটি প্রফেশনাল সার্টিফিকেশন। তবে যেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করেন না কেন, আপনার রেজিউম বা সিভিতে যদি নিজেকে উপস্থাপন করতে না পারেন তাহলে কিন্তু আদতে কোন লাভ হবেনা। এমনকি আপনার চেনাপরিচিত কেও রেফার করলেও আপনাকে শর্টলিস্ট করার সম্ভাবনা কমে যাবে।

কয়েকদিন আগে জুনিয়রদের জন্য কিছু রেজিউম টিপস ফেসবুকে শেয়ার করেছিলাম। ভাবলাম সেটা এখানে লিখে দেই।

মূলকথা হল, আপনার রেজিউম এমনভাবে তৈরী করুন যেন কম সময়ে, এক ঝলক তাকিয়েই রিক্রুটার বুঝে ফেলে আপনি কিসে এক্সপার্ট বা আপনার পটেনশিয়াল কোনদিকে স্ট্রং। এজন্য রেজিউম এক থেকে দুইপেজ হলেই ভাল হয়। এমন কিছু না করাই ভাল হবে যাতে রিক্রুটাররা বিরক্ত না হয়। আর হ্যাঁ, সঠিকভাবে আপনার যোগাযোগ নম্বর দিন, বিশেষ করে আপনার নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল আর বাসার এড্রেস যেন ভুল না হয়। কেননা পরবর্তীতে আপনার সকল কনট্রাক্ট, ভিসা এপ্লিকেশন, ব্যাংক একাউন্ট ইত্যাদি এইসব নামেই তৈরী হবে।

ইন্টারভিউ দেওয়া

আপনার রেজিউম কেও রেফার করলে অথবা রিলোকেশন অফারে এপ্লাই করলে আপনাকে পছন্দ হলে আপনি কোম্পানির HR বা রিলেটেড যারা তাদের কাছ থেকে ইন্টারভিউ এর ডাক পাবেন। সাধারণত এসব ইন্টারভিউ কয়েক ধাপে হয়। প্রথম ধাপের ইন্টারভিউ সিম্পল ফোনকল (স্কাইপ বা হ্যাংআউট) এ হতে পারে, পরের ধাপে দুতিনজন টেকনিকাল ইন্টারভিউ হতে পারে যেখানে কোম্পানির সিনিয়র ইঞ্জিনিয়াররা আপনাকে যাচাই করবেন। তারা গ্রীণ সিগনাল দিলে আপনাকে নেওয়া হবে সিইও বা লীড পজিশনের যারা তাদের কাছে। তারা আপনার নন-টেকনিকাল বিষয়গুলা যাচাই করবেন, যেমন আপনার লীডারশিপ কেমন, আপনি কিভাবে একটা কাজ গুছাবেন, কিভাবে অণ্যকে প্রভাবিত করে কাজ আদায় করবেন। সেখানে মানুষ হিসেবে কেমন এটাও যাচাই করা হবে। সবশেষে যদি আপনাকে HR থেকে ডাকা হয় তাহলে বুঝবেন যে আপনাকে শর্টলিস্ট করা হয়েছে। মূলত এই লেভেলে আপনাকে স্যালারী ও কবে জয়েন করতে পারবেন এই ধরণের প্রশ্ন করা হবে। কাজেই কোন স্টেপে অবহেলা করবেন না। ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে পারেন।

পরবর্তী পর্বে বলব কিভাবে বেতন ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে কোম্পানির সাথে দরকষাকষি করবেন। ভাল থাকুন সবাই।

পরবর্তী পোস্ট মালয়েশিয়ায় রিলোকেশন ১ - কোম্পানির সাথে দর কষাকষি ও এমপ্লয়মেন্ট পাস